টানা দুই দফা কমার পর ফের শনিবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০ টাকা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা।

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানায় বাজুস।

এর আগে, সবশেষ ২৫ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। 

স্বর্ণের সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৫ দফা।