প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা ও নির্ধারিত মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ইতিহাসে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট ঘোষণা শেষে ধানমণ্ডি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানায় সিপিডি।

সিপিডির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, বাজেট বাস্তবায়ন করতে চাইলে এর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তসম্মত হতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে এবং এতে করে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।

লক্ষ্যমাত্রার সমান রাজস্ব আহরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ফাহমিদা জানান, “উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে তাতে করে বড় রকমের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। রাজস্ব আদায়ের এত বড় উম্ফলন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা যাবে না উল্লেখ করে ফাহমিদা বলেন, “মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা চ্যালেঞ্জিং। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের মতো। এক বছরের মধ্যে তা দেড় শতাংশে কমিয়ে আনা কঠিন কাজ। সরকার রাজস্ব আদায় করতে না পেরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে এই কাজ আরও কঠিন হবে।”

পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি মুদ্রানীতিতে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে উল্লেখ করে ফাহমিদা বলেন, “এখন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি চলছে। এই বাস্তবতায় বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নীতি প্রণয়নে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। রাজস্ব নীতির সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে।”

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী মনে হলেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে ফাহমিদা জানান, বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ উচ্চাভিলাষী মনে হলেও বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকার বিবেচনা করলে তা সম্ভব হতে পারে।

“বেসরকারি বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে রপ্তানির পালে হাওয়া লাগানো। সেই সঙ্গে সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে। এখন যে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ,আর্থিক খাতের পরিস্থিতি ও জ্বালানিসংকট, তাতে এই লক্ষ্য অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং,” বলেন ফাহমিদা।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রবৃদ্ধি নির্ভর না হয়ে স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকনির্দেশনা দিলে আরও ভালো হতো উল্লেখ করেন ফাহমিদা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে করছাড় দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন ফাহমিদা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।