অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিরতি দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফিরলো পুরনো নিয়মে আবসন খাতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, যেখানে প্রচলিত আইনে বিনিয়োগকারীকে তার টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ থাকছে না।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপন করেন। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকার মালিকদের বিগত সময়ের মতো ১৫ শতাংশ কর দিয়ে টাকা বৈধ করার সুযোগ না দিলেও নতুন নিয়মে বিধিমাফিক কর দিয়ে প্লট কেনার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পাবেন তারা।

এ সুবিধা নিশ্চিতে আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করলে তা রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবে। এ জন্য তাকে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যা ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে যদি কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করে থাকেন, তাহলে বিক্রেতাকে সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপ্রণোদিত ঘোষণা পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

এই পদ্ধতিতে অতীতে বিনিয়োগকৃত কালো টাকা প্রদর্শন করা হলে বাংলাদেশের প্রচলিত অন্য কোনো আইনে বিনিয়োগ বা ক্রয় বা অর্থ প্রাপ্তির উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে স্বপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগকে ইতোমধ্যে স্বাগত জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব জানিয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। 

রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল বলেন, “সরকার প্লট কেনার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দিয়েছে তা আমরা সাধুবাদ জানাই।”

আবাসন শিল্পকে সমুন্নত করতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে বিবেচনা করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি বিতর্কিত দেশের সচেতন মহলের কাছে।