দেশের আইসিটি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রতিবছর 'স্টার্ট-আপ তহবিল' এ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার বাজেট প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

"আইসিটি বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবন নির্ভর, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসাবে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি," বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান,  এই অর্থ ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ হিসেবে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে, নারী উন্নয়নে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

আইসিটি, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতের বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি ও টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এ সেক্টর হতে পারে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। অথচ বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দর, সাতটি রেলওয়ে স্টেশনসহ আন্তনগর ট্রেনে বিশ্বমানের উচ্চ গতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে।

সরকার গত ৪ মাসে ৪১ লাখ নতুন ফোর জি মোবাইল সংযোগ এবং চার লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান করেছে। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান খসরু।

দেশব্যাপী শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে খসরু বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণ সহজ ও নিরাপদ করতে এবং ক্যাশলেস ডিজিটাল ইকোনোমি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) ও ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাসহ বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত পলিসি ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক এবং সময়োপযোগী আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফেকচারিং হাব-এ রূপান্তর করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে জানান খসরু।

বর্তমানে শুধু আইটি খাতে ফ্রিল্যান্সিং এর ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই সুবিধা অন্যান্য সকল ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব দেন মন্ত্রী যাতে ফ্রিল্যান্সরা বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আদের অর্জিত আয় নিয়ে আসতে পারে।

এছাড়া তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ যোগাতে সব কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি।

উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।