স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে তাজউদ্দীন আহমদের ঘোষিত ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের বাজেট ইতিহাসের। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ— ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেট ৩০ জুন সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।
স্বাধীনতার পর সামরিক ও গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত ১৪ জন অর্থমন্ত্রী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ও সামরিক আইন প্রশাসকরাও রয়েছেন।
দেশের বাজেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড রয়েছে প্রয়াত দুই অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের। তারা দুজনই তিন মেয়াদে ১২টি করে বাজেট দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের টানা চার মেয়াদের শাসনামলে সাড়ে ১৫ বছরে আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর আ হ ম মুস্তফা কামাল পাঁচটি এবং আবুল হাসান মাহমুদ আলী একটি বাজেট দেন।
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে একটি বাজেট দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেটিই ছিল প্রথম বাজেট, যার আকার আগের অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কম ছিল।
এবারের বাজেট এমন এক সময়ে আসছে, যখন দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পূর্বের পোস্ট :