ভ্যাট ও করের হার সহনীয় করা, গ্যাস সংকট নিরসন এবং ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধসহ রেস্তোঁরা ব্যবসার চলমান সংকট সমাধানে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রোববার ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

করোনাকালীন সংকট কাঁটিয়ে উঠতে না উঠতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বর্তমানে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সমস্যার প্রভাব পড়েছে দেশের নিত্যপণ্যের দামে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ক্ষতির মুখে রেঁস্তোরা ব্যবসায়ীরা পড়ছেন বলে জানান তারা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান জানান,চলমান সংকটের কারণে মানুষ রেস্তোরাঁয় যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। দিনকে দিন এ খাতের ব্যবসা সংকটের সম্মুখীন।

তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। না হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এ খাতের ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন ইমরান। 

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে খাত উন্নয়নে ১১ দফা দাবি জানান। এরমধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও করের হার সহনীয় মাত্রায় রাখার আহ্বান জানান তারা। তবে রাষ্ট্রের যাতে রাজস্ব আহোরণ না কমে সেজন্য ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিধি বারানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এ খাতে জ্বালানি সংকট সমাধান করতে দ্রুত এলপিজি সংকটের সমাধানের পাশাপাশি এবং সরকারি লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তারা।

হয়রানি বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযান বন্ধ এবং অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। রেস্তোরাঁ খাতে রাজউক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশসহ সব অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করার দাবি তোলেন ব্যবসায়ীরা।

রেস্তোরাঁ খাতে করপোরেট আগ্রাসন বন্ধের পাশাপাশি এ খাতকে শিল্প হিসাবে ঘোষণার বাস্তবায়ন ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

রেস্তোরাঁ খাতে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তোরাঁ খাতে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে জটিল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, একাধিক দপ্তরের অনুমোদন ও সমন্বয়ের অভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি সনদ প্রয়োজন হয়, যা পেতে দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে।

এ পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য একটি সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি  এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান সমিতির মহাসচিব।