নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে বলে বুধবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ঢাকার পুঁজিবাজার ব্রোকারসদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

দুপুরে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত এক বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, আমীর খসরু দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

অতীতে আমীর খসরু দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন উল্লেখ করে ডিবিএ জানায়, তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান এবং বাজার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা দেশের আর্থিক খাতকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আমীর খসরু ২০০১ সালে বিএনপি সরকারে সফলতার সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন উল্লেখ করে ডিবিএ আশা প্রকাশ করে , তার সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে বিশেষ সহায়ক হবে।

পুঁজিবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নে তিনি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করে আসছেন বলে উল্লেখ করেছে ডিবিএ। 

একটি কার্যকর ও ফাংশনাল পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠিত হলে শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বাজারে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আকার এখনও তুলনামূলকভাবে ছোট—এই বাস্তবতা তুলে ধরে অর্থনীতির সুষম বিকাশের জন্য পুঁজিবাজার সম্প্রসারণকে অপরিহার্য মেনে তিনি কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করে ডিবিএ।

পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, বাজারের গভীরতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ডিবিএ নতুন এ অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করে, নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সুসংহত করা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন, পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা—উভয় খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে বিশেষ অবদান রাখবে বলে সংগঠনটি আশাবাদ ব্যক্ত করে।

ডিবিএ’র পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে ডিবিএ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করবে এবং একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।