সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত ছিল। তবে গ্রুপ সেরা হতে ভারতের বিপক্ষে জয়ের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে লাল-সবুজের দল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের দেখা না পেয়ে ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করে তারা। ফলে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ চারে উঠেছে বাংলাদেশ।
শনিবার মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচের দুটি গোলই আসে প্রথমার্ধে।
এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত ৩-০ গোলে হারায় পাকিস্তানকে। ফলে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৪ হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত, আর বাংলাদেশ হয় রানার্সআপ।
প্রথমার্ধে গোলের লড়াই
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে আশিকুর রহমানের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
তবে খেলার ধারার বিপরীতে ১৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন বিশাল যাদব। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভারত।
অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা তৈরি হয়। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী লালকার্ড দেখেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। রোনান বেঞ্জামিন সুলিভানের কর্নার থেকে দূরের পোস্টে থাকা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে জমাট লড়াই
বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। ৬৩তম মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান বাংলাদেশের গোলকিপার ইসমাইল হোসেন। ভারতের ওমাং দুদুর শট নেওয়ার আগেই এগিয়ে এসে বল কর্নার করে দেন তিনি।
এরপরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ৮৭তম মিনিটে রোনানের শট লক্ষ্যে না থাকায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
সামনে সেমিফাইনাল
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১ এপ্রিল নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাতবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ভারত চারবার, নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার শিরোপা জিতেছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ আসরে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
পূর্বের পোস্ট :