ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত নেতা মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড (যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি) বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের আটক করা হয় বলে শনিবার জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার ও তার মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন।
তবে তাদের কোথা থেকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’-এর প্রমাণ তার সম্প্রতি মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, হামিদেহ সোলেমানি আফসার ইরানের কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রকাশ্য সমর্থক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং আইআরজিসির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
শুধু তার গ্রিন কার্ড বাতিলই নয়, তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন কাসেম সোলেমানি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ইরান। শনিবার সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানির বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানায়, তাদের পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি এবং সোলেমানির কোনো ভাতিজি নেই, বরং দুই ভাতিজা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আরও জানিয়েছেন, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি আলী লারিজানির মেয়ে আর্দেশির লারিজানি এবং তার স্বামী সাঈদ কালান্তর মোতামেদির গ্রিন কার্ডসহ সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যারা ‘আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসনের সমর্থক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। তার ভাষায়, এসব অভিবাসী আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’।
পূর্বের পোস্ট :