যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে কয়েকটি দেশের উদ্যোগ থমকে গেছে বলে মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন এই প্রচেষ্টা কার্যত কোনো ফল আনতে পারেনি। আসন্ন দিনগুলোতে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে কর্মকর্তা পাঠাতে অনাগ্রহের কথা তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে ইরান, ফলে বর্তমান কাঠামোয় আলোচনার সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থা কাটাতে তুরস্ক ও মিশর ইসলামাবাদের বাইরে বিকল্প পথ খুঁজছে। যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে কাতার ও ইস্তাম্বুলের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে—এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বুধবার এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানানো হয়।
একইদিন ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘অবাধ, মুক্ত ও নিরাপদ’ না হওয়া পর্যন্ত এমন অনুরোধ বিবেচনা করবেন না।
তিনি আরও বলেন, “তার আগে পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাবো, কিংবা তারা যেমন বলে, প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে দেবো।”
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শুক্রবার অনামা একটি সূত্র ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্রটি জানায়, বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হলেও সেই দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পূর্বের পোস্ট :