সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা চার তরুণের ভূমধ্যসাগরে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের—নূরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদ ও শাহান। অপরজন রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং তারা অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।”

নিহত ময়নার মামা উমেদ আলী জানান, তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ময়না ছিল সবার ছোট ও আদরের। তাকে ইতালি পাঠাতে প্রায় ১২ লাখ টাকায় দালালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। পরিবারের জমিজমা ও গবাদিপশু বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করা হয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন টাকাও গেল, ছেলেও চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। আমরা দালাল চক্রের বিচার চাই।”

একই গ্রামের ইউপি সদস্য শাহনুর মিয়া বলেন, উন্নত জীবনের আশায় তরুণরা দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তার ভাষায়, “লিবিয়া হয়ে সাগরপথে যাওয়ার সময় তারা ডুবে মারা গেছে। পরিবারগুলোতে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি।”

এদিকে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কিছু তথ্য দেখা গেছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা ঘটনাটি যাচাই করতে নিহতদের বাড়িতে যাচ্ছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।