ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হামলা স্থগিতের সময় আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের এক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘একপেশে ও অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তেহরান দাবি করছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত ইতিমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও সারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রথমবারের মতো মনুষ্যবিহীন ড্রোন স্পিডবোট ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হামলা স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা। এসব শর্ত মানা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুইই সমান্তরালভাবে চলছে। এর ফলাফল কী দাঁড়াবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।
পূর্বের পোস্ট :