ইরানে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ধাক্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাব কমাতে বিভিন্ন দেশকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেল কেনার সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সব রুশ তেল কেনা যাবে না। কেবল বর্তমানে সমুদ্রে কোনো নৌযানে থাকা তেলের ক্ষেত্রেই এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই অনুমতি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে রাশিয়ার তেলের ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

স্কট বেসেন্ট বলেন, “সীমিত পরিসরের এই স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা কেবল জলপথে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এতে রাশিয়া সরকার উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না।”

ইরান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার প্রত্যয়ের ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধজনিত তেলের দামের অস্থিরতা মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলোও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিপিন্স যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তার প্রায় ৯৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশটির সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের সপ্তাহে চারদিন অফিস করার নির্দেশ দিয়েছে।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে পেট্রলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে।

স্কট বেসেন্ট বলেন, “তেলের দামে এই সাময়িক বৃদ্ধি একটি ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্পমাত্রার ব্যাঘাত মাত্র, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে।”

এর আগে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘সামরিকভাবে যত দ্রুত সম্ভব’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাহারা দেওয়া শুরু করবে।

স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশ ছিল। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই যুক্তরাষ্ট্র তা বাস্তবায়ন করবে।