ভারতের জম্মুতে অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের এমবিবিএস প্রোগ্রাম চালানোর অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে দেশটির জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন মুসলিম হওয়ার পরপরই, যা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।

ভর্তি তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, আরএসএসপন্থী এবং বিজেপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গোষ্ঠী কলেজটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি ছিল, একটি সরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা তারা মেনে নিতে নারাজ।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এনএমসি কলেজটির এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। যদিও কমিশনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা বিষয়টিকে ‘সংখ্যার নয়, শিক্ষার মানের প্রশ্ন’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে একটি মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা ভারতের সংবিধানে ঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষতা ও শিক্ষায় সমান অধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা এটিকে মুসলিমদের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ সীমিত করার জন্য রাজনৈতিক ও আদর্শিক চাপের ফল বলে মনে করছেন।

এই ঘটনা এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যখন মোদি সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে ধারাবাহিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিলকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র ধরা পড়ে না। এটি উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতিতে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে।

ঘটনার পর জম্মুতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, শিক্ষায় সমান সুযোগ এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বাস্তবে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।