গাজীপুরের কালীগঞ্জে বছরের শুরুতেই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আড়াই শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা, যা এলাকাবাসীর কাছে বেশি পরিচিত ‘জামাই মেলা’ নামে।
শীতের আমেজ আর উৎসবের রঙে ভরা এই মেলায় বুধবার সকাল থেকেই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই লোকজ আয়োজন শুধু বাণিজ্যিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
কালীগঞ্জের জামাই মেলা আজও প্রমাণ করে, মাছের সঙ্গে মিশে আছে ভালোবাসা, সম্মান আর আত্মীয়তার টান।
ক্রেতারা জানান, মেলার প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির দেশি মাছ। রুই, কাতল, বোয়াল, আইড়সহ নানা প্রজাতির বড় মাছ সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত জামাইরা এসব মাছ কিনে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে, যা এই মেলার মূল ঐতিহ্য।
বিক্রেতারা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ মেলায় মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতার কোনো ঘাটতি নেই। কারণ এখানে মাছ কেনা শুধু কেনাবেচা নয়, বরং একটি সামাজিক ও পারিবারিক রীতির অংশ।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি আলী হোসেন জানান, আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই জামাই মেলার মাছ দেখতে ও কিনতে আসছেন।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এক দিনের এই মেলাতেই অন্তত এক কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :