আগের শাসকগোষ্ঠী তাদের সংঘটিত অপরাধ অস্বীকার করে চলায় এই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—আলবার্ট গোমবিস ও মর্স ট্যান। সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ-পরবর্তী ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কি না—সে প্রশ্ন তোলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার এ তথ্য জানায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আলবার্ট গোমবিস সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট এবং মর্স ট্যান সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ। আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁরা বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
সাক্ষাতে দুই মার্কিন কূটনীতিক গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় অধ্যাপক ইউনূসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনি সে দেশের সত্য ও সমঝোতা প্রক্রিয়া গভীরভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এমন উদ্যোগ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, “সময়টা এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? সত্য ও সমঝোতা তখনই আসে, যখন কেউ নিজের ভুল স্বীকার করে, অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং সেই অনুযায়ী পরিবেশ তৈরি করে।”
অধ্যাপক ইউনূসের মতে, আগের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনো এসবের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
পূর্বের পোস্ট :