বছর গড়ালেও বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শেষ হয়নি। ফলে পৌনে ছয় কোটির বেশি বইয়ের অপেক্ষা নিয়েই বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে।

নতুন বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে ৩০ কোটি বই ছাপা ও বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সব বই ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দেশীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণকাজ গত ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে বুধবার রাত পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ১৫ কোটি ৬১ লাখ বই।

এ হিসাবে এখনও বাকি রয়েছে ৫ কোটি ৮১ লাখ বই। এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে এই সংকট কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক উইংয়ের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক রিযাদ চৌধুরী বুধবার রাতে বলেন, রাত ৮টা পর্যন্ত মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের মোট বইয়ের ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। বাকি বইগুলো দ্রুত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে।

কোন শ্রেণির কত বই পৌঁছেছে

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে ৩ কোটি ১১ লাখ বই এবতেদায়ী পর্যায়ের এবং ১৮ কোটি ৩২ লাখ বই মাধ্যমিক পর্যায়ের।

এনসিটিবির উপ-বিতরণ নিয়ন্ত্রক মাহমুদা খানম জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ কোটি ৬১ লাখ কপি বই পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের ১২ কোটি ৬৫ লাখ এবং এবতেদায়ীর ২ কোটি ৯৫ লাখ কপি বই রয়েছে।

তিনি বলেন, এবতেদায়ী পর্যায়ের মোট বইয়ের ৯৫ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট বইয়ের ৬৯ দশমিক ০৭ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিতরণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণির ৪ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণির ৪ কোটি ১৫ লাখ বইয়ের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অষ্টম শ্রেণির ৪ কোটি ২ লাখ বইয়ের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং নবম শ্রেণির তিন বিভাগের ৫ কোটি ৭০ লাখ বইয়ের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বই বুধবার রাত পর্যন্ত উপজেলায় পৌঁছেছে।

প্রাথমিকের বই বিতরণ শেষ

এদিকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষে গত ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, বছরের প্রথম দিনেই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব বই ইতোমধ্যে স্কুলে-স্কুলে পাঠানো হয়েছে।

মাধ্যমিকের বই দেরির কারণ

নতুন বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া এবং বই পরিমার্জনে সময় লাগায় গত বছর মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

ওই অভিজ্ঞতা থেকে এবার সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি প্রথম দফায় ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র বাতিল করায় প্রায় দুই মাস দেরি হয় বলে জানান এস এম আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, নভেম্বরে শুরু হওয়া মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বই ছাপার কাজের কারণে বছরের প্রথম দিনে সব মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর হাতে সব বিষয়ের বই দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে বই পেতে দেরি হলেও শিক্ষার্থীরা যেন অনলাইন থেকে পড়তে পারে, সে জন্য নতুন বছর শুরুর আগেই এনসিটিবির ওয়েবসাইটে পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ সেখানে রয়েছে বলে জানান তিনি।