অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথের বৈধতা প্রশ্নে দায়ের করা রিট মামলায় আপিলের অনুমতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ নিয়ে আইনি প্রশ্নের অবসান হলো।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিটকারী পক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স ও আদালতের মতামতের প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট বেঞ্চ চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে। পরে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আদেশে হাইকোর্ট বলে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সেই অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আইনি ভিত্তিসম্পন্ন।

আদালত পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্টের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ এবং জনগণ তা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে। রিটটিকে ‘ভ্রান্ত ধারণা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে তা খারিজ করা হয়।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগুরুত্বসম্পন্ন আইনি প্রশ্নে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে রেফারেন্স পাঠান।

গত বছরের ৮ অগাস্ট তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মতামত দিয়ে জানায়— সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ ও শপথ পড়ানোর ক্ষমতা রাখেন।

এর আগে ৬ অগাস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা শপথ নেন।