বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভা ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তবে আইনটি চূড়ান্ত করার আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটিকে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফা অনুযায়ী, ১ নম্বর দফার অধীন জারি করা কোনো অধ্যাদেশ পরবর্তী জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হয়।
এদিকে, ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছর জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারসহ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে।
এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারসহ তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে।
সরকারি কর্মচারীরা ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীরা তাঁদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসব পালনের জন্য দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।
সব মিলিয়ে ২০২৭ সালে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি হবে ২৯ দিন। তবে এর মধ্যে সাত দিন—তিনটি শুক্রবার ও চারটি শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন।
অন্যদিকে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায়ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ক্ষেত্রেও লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন করতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা চালুর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’ এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে আইনটিতে সংশোধন আনা হয়।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফা অনুযায়ী, অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করতে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করতে হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনের খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :