দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইটটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সফরের প্রথম দিনেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
সফরকালে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে জাপানের বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও পরিদর্শন করবেন তিনি। এর মধ্যে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, বেসামরিক বিমান চলাচল, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ সফরে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
সফরের আগে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ১২টি অগ্রাধিকার খাতে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন, শিল্প ও বন্দর অবকাঠামো, উৎপাদনশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল, জ্বালানি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাত এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।
১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকা মেট্রোরেলসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটির সহায়তা রয়েছে। এবারের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্বের পোস্ট :