নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত আয়োজিতব্য শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন কর্মকর্তারা।
তাঁরা জানান, শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শোসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্যান্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা হয়তো তা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।”
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। তাই প্রত্যেককে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।”
বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বের পোস্ট :