জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান এবং কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।
এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।
রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাইকমিশনার বারহাম সালিহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে
মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে জনগণের স্বার্থ এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বুধবারের কর্মসূচি
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মূল কেন্দ্রে রয়েছে মানবিক বিষয়, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
তিনি আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন। পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন।
এছাড়া তিনি “ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেবেন এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
বৃহস্পতিবার বাংলায় ভাষণ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ।
সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে তিনি বক্তব্য দেবেন। ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে ১৫ মিনিটের ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন।
এর আগে সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন।
এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন
নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পূর্বের পোস্ট :