জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানে দান করলে সেই অর্থের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর দিতে হবে না। নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে মা ও শিশু হাসপাতাল, রামকৃষ্ণ মঠ, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আগের অর্থবছরে ৯টি প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলে একই ধরনের কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়া গেছে।

নতুন তালিকায় থাকা ১১টি প্রতিষ্ঠান হলো— ব্র্যাক, বাংলাদেশ ক্যানসার এইড ট্রাস্ট, অ্যাসিক, ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন ক্যানসার, আল-মারকাজুল ইসলামী, ডিজেবলড চাইল্ড ফাউন্ডেশন, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি, মাওনা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে আভাস দিলেও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, “করদাতাদের দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে দানকে উৎসাহিত করতে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যান্সার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।”

পরে শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রজ্ঞাপন জারি করে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলে সংশোধন আনা হয়েছে। এতে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পরিবারের জন্য জীবনবিমা, নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে গঠিত সংগঠনে দানের অর্থ আয়করের আওতার বাইরে রাখার বিধান রয়েছে।

একটি বিধানে বলা হয়েছে, সরকার অনুমোদিত কোনো জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলে সেই অর্থের ওপর আয়কর রেয়াত পাওয়া যাবে।

এনবিআর জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া দান ও অনুদানের অর্থ আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কর অব্যাহতির আওতায় থাকবে।

চলতি অর্থবছরে যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে অনুদানে একই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, রোগী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশন।