আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে যেতে হবে—নচেৎ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে হতে পারে। এমনই কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বুধবার আইসিসির এক গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বাংলাদেশ যদি আয়োজক দেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদের পরিবর্তে অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ইউরোপীয় বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ড সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

আইসিসি বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভোটে উপস্থিত ছিলেন সব পূর্ণ সদস্য দেশের পরিচালকরা, যার মধ্যে আইসিসি চেয়ার জয় শাহ, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভিও ছিলেন।

সভায় ভোটের আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। তারা আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগকে সমর্থন জানায়। তবে সেই হস্তক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বাংলাদেশের আপত্তির মূল কারণ হলো—কলকাতা ও মুম্বাইয়ে গ্রুপ ম্যাচ খেলতে অনীহা। বিসিবির মতে, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি দলটির জন্য উদ্বেগজনক।

তবে বোর্ড সভায় উপস্থাপিত একটি স্বাধীন ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে সামগ্রিক হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি থেকে তুলনামূলক বেশি’ হলেও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো হুমকির তথ্য নেই।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তন বা ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু—যেমন শ্রীলঙ্কায়—স্থানান্তরের কোনো প্রস্তাবে রাজি হয়নি আইসিসি।

এ অবস্থায় বিসিবির আগামীকালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব ক্রিকেট। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে, নাকি বৈশ্বিক মঞ্চে তাদের জায়গা অন্য কোনো দলকে ছেড়ে দিতে হবে।