গ্যালারিতে দর্শক এমনিতেই কম ছিল। যারা ছিলেন, রান তাড়ার পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বেশির ভাগই ধরে নিলেন বাড়ির পথ—ম্যাচ যে তখনই শেষ! যারা থেকে গেলেন, তারা দেখলেন তাওহিদ হৃদয়ের ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংস। হাততালি দেওয়ার মতো কিছু চার–ছক্কা মিললেও ম্যাচে ফেরার মতো কিছুই ছিল না।

হৃদয়ের সঙ্গে টেলএন্ডারদের লড়াইয়ে দলের রান কিছুটা সম্মানজনক হয়, বিব্রতকর হার এড়ানো যায়। তারপরও টি–টোয়েন্টিতে ৩৯ রানের ব্যবধান বাংলাদেশ দলের বড় ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি।

সিরিজ শুরুর আগের দিন লিটন দাসের মন্তব্যে ক্রিকেটে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। পরদিনই সিরিজের প্রথম ম্যাচে লিটনের দল ব্যাট–বলে লড়াই জমাতেই পারল না। দারুণ জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১–০তে এগিয়ে গেল আয়ারল্যান্ড।

আয়ারল্যান্ডের আগ্রাসী ব্যাটিং

চট্টগ্রামে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে তোলে ১৮১ রান। ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৯ রানে দলের বড় সংগ্রহ গড়ে দেন হ্যারি টেক্টর। শুরুর জুটি স্টার্লিং–টেক্টর ৪ ওভারে তোলে ৪০ রান। শরিফুল ইসলামের প্রথম দুই ওভারেই আসে ৬টি বাউন্ডারি।

তানজিম এসে স্টার্লিংকে ফেরালেও চাপ বাড়াতে থাকেন দুই টেক্টর ভাই। টিম টেক্টরের ১৯ বলে ৩২’র ইনিংস, লর্কান টাকার (১৮) ও ক্যাম্ফারের (২৪) অবদান শেষে ডকরেল ও হ্যারি টেক্টরের লেট অর্ডার ঝড়ে আয়ারল্যান্ড পৌঁছে যায় ১৮০–র ঘরে।

রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই ছিটকে বাংলাদেশ

টি–টোয়েন্টিতে দেশের মাঠে ১৬৫ রানের ওপরে তাড়া করে জেতেনি বাংলাদেশ। সেই চ্যালেঞ্জে শুরুতেই ভেঙে পড়ে ব্যাটিং অর্ডার। হামফ্রিজের প্রথম ওভারেই তানজিদ, পরের ওভারেই লিটন। অ্যাডায়ারের পরিকল্পনার ফাঁদে পড়ে ফেরেন পারভেজ। ১৩ বলে ৬ করা সাইফ হাসান বোল্ড হলে পাওয়ার প্লেতে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২০—সেখানেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত।

এরপর জাকের–হৃদয়ের ৪৮ রানের জুটি সামান্য প্রতিরোধ গড়ে। জাকের আউট হতেই আবার ধস নামে। হামফ্রিজ এক ওভারেই নেন তিন উইকেট—তানজিম, রিশাদ, নাসুম।

৮ উইকেটে ৭৪ রান—বাংলাদেশ তখন গভীর সংকটে।

হৃদয়ের লড়াই, শরিফুলের সঙ্গ

সব হারিয়ে কিছুটা লড়াই দেখা যায় নবম উইকেটে। হৃদয়ের সঙ্গে শরিফুল ইসলাম গড়েন দেশের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে নবম উইকেটে সর্বোচ্চ ৪৮ রানের জুটি। ৫০ বলের ইনিংসে হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৮৩ রানে—তার ক্যারিয়ার–সেরা। শরিফুলও মারেন একটি বড় ছক্কা।

শেষ ওভারে হৃদয়ের চার–ছক্কায় দল পৌঁছায় ১৪২–এ। কিন্তু তাতে হার এড়ানোর উপায় ছিল না।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড: ১৮১/৪ (টেক্টর ৬৯*, টিম টেক্টর ৩২, স্টার্লিং ২১, ক্যাম্ফার ২৪; তানজিম ২ উইকেট)

বাংলাদেশ: ১৪২/৯ (হৃদয় ৮৩*, জাকের ২০; হামফ্রিজ ৪০–১৩–৪)

ফল: আয়ারল্যান্ড ৩৯ রানে জয়ী

সিরিজ: আয়ারল্যান্ড ১–০

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ম্যাথু হামফ্রিজ