সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, যা টানা দশ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন যুদ্ধের ছায়ায় কেঁপে উঠেছে। শহরের আকাশে ফাইটার জেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের শব্দে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমিরাতের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা বাসিন্দাদের সতর্ক করতে সাইরেন বাজাচ্ছে। এই অবস্থা যেন ঈদুল ফিতরের আনন্দকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে তাদের মনে কেবল প্রার্থনা। প্রত্যেকেই দোয়া করছে, এই সংঘাত যেন দ্রুত শেষ হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধে ২১ দিন পার হয়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
প্রবাসীদের গল্প
ইফতেখার হোসেন বাবুল, প্রায় ৪০ বছর ধরে আবুধাবিতে বসবাসরত ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা, বলেন, “আমিরাত কখনো যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে, সেটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। শঙ্কা আর উদ্বেগের মধ্যে আমাদের ঈদ কাটবে। তবে আমরা চেষ্টা করব কমিউনিটির মধ্যে কিছুটা আনন্দের ছোঁয়া রাখার।”
মোহাম্মদ নওশের আলী, দুবাইয়ের আরবান রিডার্স কোম্পানির প্রকৌশলী, বলেন, “এবারের ঈদ স্মৃতিতে থাকবে। সুন্দর আবহাওয়া ও রমজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। রমরমা উৎসব নেই, তবে কমিউনিটি ফিলিং এবং ভ্রাতৃত্ববোধ আছে।”
রিমা ফারুক, প্রবাসী লেখক ও সংগঠক, বলেন, “যুদ্ধের খবর ও আতঙ্ক চারপাশে। তবে ঈদের আসল শিক্ষা ভুলে চলবে না—সহানুভূতি ও ভালোবাসা নিয়ে একে অপরের পাশে থাকতে হবে।”
মুহম্মদ মঈনুল ইসলাম, দুবাই ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড ওয়াটার অথরিটির প্রকৌশলী, বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে এই নিরাপদ দেশে বাস করছি। এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নীরবে ঈদ উদযাপন করছি। সকলের মঙ্গল কামনা করি।”
গিয়াস উদ্দিন, আবুধাবি প্রবাসী উদ্যোক্তা, বলেন, “এবারের ঈদ ভয় ও আতঙ্কের। মিসাইল হামলায় প্রাণহানি হয়েছে। সরকারী পরামর্শে ঘুরাঘুরি ও আড্ডা বন্ধ। তবে আমরা আমাদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছি।”
আবু তৈয়ব চৌধুরী, লেখক ও ব্যবসায়ী, বলেন, “করোনার পর এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঈদ করছি। স্বজনপ্রিয়জনদের জন্য শূন্যতা বেশি অনুভব করছি। আল্লাহ প্রিয়জনদের ভালো রাখুন। সবাইকে ঈদ মোবারক।”
প্রবাসীরা এবারের ঈদকে শান্তি ও সংযোগের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করছেন। যুদ্ধের অন্ধকারের মধ্যেও তারা আশা হারাচ্ছেন না। কারণ প্রতিটি কঠিন সময়ের পরে আসে স্বস্তি।
পূর্বের পোস্ট :