ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত একান্ন জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি বিদ্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে মিনাবের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় ভবনের ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। শহরটি হরমোজগান প্রদেশে অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী।

তেহরান থেকে এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মিনাবে নিহতের সংখ্যা চল্লিশের বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, এটি একটি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে এবং ইরানের সাধারণ জনগণকে নয়, বরং শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের মতো স্থাপনায় হামলা এবং বেসামরিক প্রাণহানি সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সরাসরি ইরানি জনগণের ওপর আগ্রাসন। তারা অভিযোগ করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের জনগণের প্রতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বারো দিনের যুদ্ধে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনপরিকাঠামো।

সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।