ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা ঘটানো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের আধুনিক রূপও দেউলিয়া হয়ে অবসায়ন প্রক্রিয়ায় পড়েছে।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর কোম্পানিটির হাত থেকে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ১৮৫৮ সালে শুরু হয় সরাসরি ব্রিটিশ শাসন। পরে ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

২০১০ সালে পুনরুজ্জীবন

প্রায় দেড় শতক নিষ্ক্রিয় থাকার পর ২০১০ সালে ভারতীয়-বরিশাল বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নেন। লন্ডনের মেফেয়ার এলাকায় একটি বিলাসপণ্যের খুচরা বিপণি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। সেখানে উন্নতমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা এবং অন্যান্য দামি পণ্য বিক্রি হতো।

২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একজন ভারতীয় মালিক হওয়ায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাসের নেতিবাচক অধ্যায়কে ইতিবাচকভাবে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।

আবারও দেউলিয়া

প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকতে পারল না। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে অবসায়ক নিয়োগ করা হয়। মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ ছিল ছয় লাখের বেশি, এছাড়া কর বাবদ প্রায় দুই লাখ এবং কর্মীদের কাছে দেড় লাখের বেশি বকেয়া জমেছিল।

লন্ডনের মেফেয়ার এলাকার দোকানটি বর্তমানে খালি পড়ে আছে এবং ভাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। সঞ্জীব মেহতার মালিকানাধীন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানও দেউলিয়া হয়েছে।

উপনিবেশ থেকে বাণিজ্যিক শক্তি

১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ-এর জারি করা ফরমানের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এটি একটি যৌথ মূলধনী বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

১৬১২-১৩ সালে ভারতের সুরাটে প্রথম বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর বাংলার শাসনভার তাদের হাতে আসে এবং তারা কার্যত সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। উনবিংশ শতকের শুরুতে তাদের নিজস্ব প্রায় আড়াই লাখ সৈন্যের বাহিনী ছিল।

তাদের শোষণ, জোরপূর্বক অর্থকরী ফসল চাষ এবং দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিহাসে এক কুখ্যাত নাম হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে চার শতকের বিতর্কিত বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটেছে।