উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার নাইজার অঙ্গরাজ্যের তিনটি গ্রামে মোটরসাইকেলে এসে সশস্ত্র দস্যুরা হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বন্দুকধারীরা গুলি ও গলা কেটে মানুষ হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং অজানা সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

শনিবার ভোরে সংঘটিত এ হামলাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় এ মাসের শুরুতেই একই ধরনের আরেক হামলায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল। তখন নিহতদের ‘সন্দেহভাজন জিহাদি’ বলে দাবি করা হয়।

বিবিসি জানায়, ‘দস্যু’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো বহু বছর ধরে নাইজেরিয়ায় হামলা ও অপহরণ চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি দেশটির পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এসব ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ভোরের দিকে প্রথম হামলা হয় তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে। নাইজার অঙ্গরাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, সেখানে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কতজন অপহরণের শিকার হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরেকটি গ্রাম কনকোসোতে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় সব বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চারজন নারীকে অপহরণ করা হয়েছে।

কনকোসোতে হামলার পর দস্যুরা পিসা গ্রামে গিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয় এবং একজনকে হত্যা করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

রয়টার্সের হিসাবে, তিনটি গ্রাম মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩২ জন। আরেকটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪৬। আশপাশের অন্যান্য গ্রামে সম্ভাব্য হামলার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দস্যুরা ৪১টি মোটরসাইকেলে করে হামলা চালায়, প্রতিটিতে দুই বা তিনজন করে ছিল।

বিবিসি লিখেছে, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাইজেরিয়ার নেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। উত্তর-পশ্চিমে জিহাদি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে, আর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা অবস্থান করছে।

বড়দিনের সময় নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সোকোতো অঙ্গরাজ্যে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, খ্রিস্টানদের হত্যা অব্যাহত থাকলে আরও হামলা হতে পারে।

তবে নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, জিহাদি সহিংসতার বহু ভুক্তভোগীই মুসলিম।