মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৭৮ বছর ধরে সদস্য থাকার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো। বৃহস্পতিবার ফেডারেল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে সংস্থাটির মহামারি মোকাবিলার ভূমিকা ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটল।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউএইচও ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। তবে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের বেশি বকেয়া চাঁদাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো নিষ্পত্তিহীন রয়ে গেছে।
কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, কিছু কারিগরি জটিলতা এখনো সমাধান বাকি—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের প্রবেশাধিকার হারানো। এই তথ্যগুলো আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন রোগের ঝুঁকি ও সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুতই সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রত্যাহার বৈশ্বিক রোগ নজরদারি দুর্বল করতে পারে এবং পোলিও, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা ভবিষ্যৎ মহামারির মতো প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডব্লিউএইচওর অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সংস্থাটিতে দেশটি বৈজ্ঞানিক জনবল ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের বড় অবদান রাখত।
সমালোচকদের মতে, ডব্লিউএইচওর শাসন কাঠামো ও কারিগরি ফোরাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে দেশটির প্রভাব কমাবে এবং মহামারি প্রস্তুতিকে দুর্বল করবে।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, স্বচ্ছতা ও মহামারি ব্যবস্থাপনায় ডব্লিউএইচও ব্যর্থ হয়েছে। এর বদলে ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বাস্থ্যচুক্তির দিকে ঝুঁকেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সমন্বয়ে সংস্থাটির ভূমিকার কথা আবারও তুলে ধরেছে। একাধিক স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী সতর্ক করেছেন, ডব্লিউএইচওতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বৈশ্বিক সমন্বয়ে শূন্যতা তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে যেসব স্বল্প আয়ের দেশ সংস্থাটির সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ওয়াশিংটন যখন বিকল্প আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের দিকে এগোচ্ছে, তখন এই পরিবর্তন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য শাসনব্যবস্থাকে কীভাবে নতুনভাবে গড়ে তুলবে এবং অন্য দেশগুলোও ডব্লিউএইচও থেকে দূরে সরে যায় কি না—সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
পূর্বের পোস্ট :