মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাল।

ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের “সামরিক আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

কারাকাসের বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বলে ওঠে। “আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল, পা কাঁপছিল,” এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনা। তবে অভিযানের ব্যাপ্তি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউসও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল। এই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরো সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করা ও অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বক্তব্যকে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে লাতিন আমেরিকাজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আঞ্চলিক নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও সংকট দ্রুত প্রশমিত হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।