পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বুধবার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সারা বিশ্বে যে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেটি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে নিজস্ব জ্বালানি উৎস দ্রুত অনুসন্ধান ও ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
"দীর্ঘদিন রিগের অভাব ও দুর্বল সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য গ্যাস সম্ভাবনার কথা উঠে আসলেও সেই সম্ভাবনাকে দীর্ঘ ১৭ বছর কাজে লাগানো হয়নি," আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকি এসব কথা বলেন।
বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার মতো প্রতিষ্ঠানকে এতদিন শক্তিশালী করা হয়নি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, " সংকট সামলাতে সরকার বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলাকেও আগের চেয়ে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার।"
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে সাকি জানান, সোলার এনার্জিকে আর ব্যয়বহুল বা বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি এখন বাস্তব প্রয়োজন। তাই ধাপে ধাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কৌশলগতভাবে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আগামী দিনের জন্য দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সাজানোর কাজ চলছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, "আগামী চার, আট ও দশ বছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্র কেমন হবে—সে লক্ষ্য সামনে রেখে একটি কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমান পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি—দুই দিকই সমান গুরুত্ব পাবে।"
সরকার একটি ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, "অতীতে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত ছিল কি না এবং বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এ কারণেই বিদ্যমান পরিকল্পনা ও চলমান প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
চলমান সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন হলেও, সেই ধারাবাহিকতার নামে অকার্যকর বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যাবে না জানিয়ে সাকি বলেন, প্রকল্পগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন এবং বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে। অতীতের পরিকল্পনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়।
অর্থনীতি যত বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে, তত বেশি এর সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। তাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পূর্বের পোস্ট :