নতুন বাংলা বছরের প্রথম প্রভাতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মোটিফে সময়ের বার্তা
এবারের শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মোটিফ। এর মধ্যে মোরগ দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, “দীর্ঘ সময় পর একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ আবার নতুন পথে এগোচ্ছে। সেই নতুন ভোরকে স্বাগত জানাতেই মোরগকে প্রতীক হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মোরগ যেমন প্রভাতে মানুষকে জাগিয়ে তোলে, তেমনি আমরা গণতন্ত্রের পুনরুত্থানকে শুভকামনা জানাচ্ছি।”
সংস্কৃতি ও প্রতিবাদের প্রকাশ
প্রতিবারের মতো এবারও সমসাময়িক বিষয়কে সামনে রেখে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
দোতারার মোটিফ যুক্ত করার বিষয়ে অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, “বাউলদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ এবং লোকসংস্কৃতিকে পুনর্জাগরণের বার্তা দিতেই এই মোটিফ।”
এ ছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, দেশীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের কাঠের হাতির আদলে তৈরি প্রতীক এবং কিশোরগঞ্জের টেপা ঘোড়া স্থান পেয়েছে শোভাযাত্রায়।
কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষক রাকিন নাওয়ার বলেন, “দেশে-বিদেশে নানা অস্থিরতার মধ্যে আমরা শান্তির বার্তা দিতে চাই। একই সঙ্গে আমাদের লোকজ সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোও এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।”
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এ শোভাযাত্রা প্রতি বছরই ঢাকার সাংস্কৃতিক জীবনে অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পূর্বের পোস্ট :