স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়েছে।
সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল—এন্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি, পেশাগত মান উন্নয়ন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ, এবং বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের সভাপতি মোঃ আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মোঃ মমিনুল ইসলাম এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ফোরাম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট নিম্নোক্ত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে—
১. সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
২. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি।
৩. স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। একটি স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন করতে হবে, যা হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু এবং বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি প্রোগ্রামকে ধাপে ধাপে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডি-তে রূপান্তর করতে হবে।
৫. সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে “ফার্মাসিস্ট” ও “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের ন্যায়, ফার্মাসিস্ট বলতে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকে বুঝায়। তাই ফার্মেসি ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৬. ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)-এ ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি তুলে ধরলে, প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতা ও জনমত তৈরির বিষয়ে আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০,০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ১ জন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন এবং উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে ১ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া (ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন) এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
পূর্বের পোস্ট :