রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা ও অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত কুমিল্লা বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, এই জেলা থেকে একাধিক সংসদ সদস্য সাধারণত মন্ত্রিসভায় স্থান পান।

১১টি সংসদীয় আসনের কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আধিপত্য থাকলেও জামায়াতে ইসলামীরও রয়েছে জয়ের ইতিহাস ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি। ৫ অগাস্ট পরবর্তী আওয়ামী লীগবিহীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট।

একাধিক আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন, যা দলীয় বিভক্তিতে জর্জরিত বিএনপিকে আরও চাপে ফেলেছে। বিভক্তি নিরসনের তেমন কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সেখানে ধানের শীষ প্রতীক না থাকাই বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

ওই আসনে শেষ মুহূর্তে এনসিপির শক্ত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর বিপরীতে বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে সমর্থন দিয়েছে। তবে এতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে কি না—তা নিয়ে দলের ভেতরেই সংশয় রয়েছে।

সাংগঠনিকভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই জেলায় বিভক্ত। উত্তরে পাঁচটি এবং দক্ষিণে ছয়টি আসন। কুমিল্লা উত্তরের আসনগুলোতে বিএনপি পুরোনো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হলেও দেবীদ্বারে এনসিপির শক্ত অবস্থান আলাদা করে নজর কাড়ছে। অন্যদিকে দক্ষিণের আসনগুলোতে বড় দুটি পক্ষের লড়াই তুলনামূলক একপেশে হয়ে ওঠায় ভোটার উপস্থিতিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক, ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে—কুমিল্লা–১, ২, ৩, ৫, ৬, ৮, ৯ ও ১০ আসনে বিএনপিকে মূলত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হচ্ছে। কুমিল্লা–৭ ও ২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছেন, যার সুযোগ নিতে চাইছে জামায়াত। কুমিল্লা–৪ আসনে এনসিপি এবং কুমিল্লা–১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা তুলনামূলক এগিয়ে থাকার আভাস দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ আসনেই ভোটের লড়াই বহুমাত্রিক। কোথাও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কোথাও জামায়াতের সংগঠিত শক্তি, আবার কোথাও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান—সব মিলিয়ে জেলার ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ সমীকরণ।