বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়নি।
বিক্ষোভটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন।
বক্তব্যে তারা অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। কারণ, তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করেছেন।
সংগঠনের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের সংশোধনী প্রস্তাবটি অক্টোবরের শুরুতে অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এটি কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান উপদেষ্টা যখন গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি প্রস্তাবের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি গভর্নরকে একটি চিঠিতে জানানো হয় যে এটি আর প্রয়োজন নেই। এই দ্বৈত অবস্থানের কারণে আমরা তার পদত্যাগ চাই, একদিনের জন্য হলেও।”
তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “যে কোনো দল আগামী সরকার গঠন করবে, আমরা চাই তারা দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন করুক।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের সংশোধনী প্রস্তাব ৯ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা ও আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা। এর আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে একটি স্মারকলিপি উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদকে প্রদান করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো কার্যকর স্বায়ত্তশাসন এবং প্রতিষ্ঠাগত শক্তিশালীকরণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নানা মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার করছে, কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের সংশোধনী আইন কার্যকর হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর হতাশা এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”
শ্রাবণ বলেন, “স্বাধীন ও সক্ষম একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকই আর্থিক খাতের সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।”
পূর্বের পোস্ট :