ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রোববার বেলা ১২টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

এরপর দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সিইসি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে—নির্বাচনের আগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম এবং আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা। এ ছাড়া বিবিধ বিষয়ও আলোচনায় আসবে।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক শনিবার জানান, সভা শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টের হলরুমে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান; প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার; মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি); এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে তফসিল ঘোষণার আগে দুই দফা এবং তফসিল ঘোষণার পর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বৃহস্পতিবার ‘আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ পরিপত্র’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন নির্ধারণ করবে। এতে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং মহানগর এলাকায় কতজন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, তা উল্লেখ থাকবে।

এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের মোতায়েনকাল, যান চলাচল সীমিত করা, বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ, প্রচারণা নিষেধাজ্ঞার সময়, পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা এবং মনিটরিং সেলসংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা থাকবে।

বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বুধবার ব্রিফিং করবে নির্বাচন কমিশন। এদিন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন ভবনে ডাকা হয়েছে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এ সভায় সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও আইজিপি উপস্থিত থাকবেন।

আপিল ও নিষ্পত্তির সময়সূচিতে সংশোধন

মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে আপিল ও নিষ্পত্তির সময়সূচিতে সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় দুই দিন কমিয়ে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি করা হয়েছে। আর আপিল নিষ্পত্তির সময় দুই দিন এগিয়ে এনে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।