ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা, ইনকিলাব মঞ্চ ও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের এক নেতা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দিক দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে জানাজা পরিচালনা করেন।

এর আগে সকাল থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন। শোকাহত মানুষের কণ্ঠে শোনা যায়, “আমরা যুগে যুগে হাদি হব, লড়াই চলবে” এবং “হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”—এমন নানা স্লোগান।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি—যিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীও ছিলেন—গত ১২ ডিসেম্বর পুরান পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি সেখানে মারা যান।

জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভোর থেকেই মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে যাত্রীচাপ বেড়ে যায়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় এক হাজার বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা সংবলিত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির ২০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান বাহিনীটির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।

ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে।