ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টাকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবিতে ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে বুধবার রামপুরা–বাড্ডা সড়ক অবরোধ করে জুলাই ঐক্য। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর সংগঠনটি তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে।

দুপুর তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি মিছিল রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত আসে।

পরে পুলিশের বাধার মুখে উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনে সড়কে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ এবং ‘আমার ভাই হাদি, হাদি ভাই মরল কেন’—এমন স্লোগান দেন।

এক বক্তব্যে জুবায়ের বলেন, মিছিল নিয়ে সামনে এগোনোর তাদের কোনো ইচ্ছা নেই। তারা শুধু জানাতে চেয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর চাইলেই কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।

তিনি বলেন, “ভয় নেই, আমরা ভারতের হাইকমিশনে হামলা চালাব না। আমাদের এই প্রতিবাদ অহিংস। তবে বাংলাদেশের ওপর কেউ আধিপত্যবাদ বজায় রাখতে চাইলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে রামপুরা–বাড্ডা সড়ক অবরোধের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড এবং এক পাশে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় নতুন বাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

এই দুই সড়কের পাশাপাশি গুলশান–বাড্ডা লিংক রোডেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

বিকেল পাঁচটার দিকে জুলাই ঐক্য কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে। আন্দোলনকারীরা জানান, হাদির হত্যাচেষ্টাকারীদের ফেরত না পাঠালে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নিলে রামপুরা–নতুন বাজার সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও গাড়ির চাপের কারণে এলাকায় বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়।