ক্রুড অয়েল ভরার জন্য মিশরের সুয়েজ বন্দর থেকে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নভোরোসিস্কের পথে ছিল ২৭৫ মিটার লম্বা চীনা জাহাজ ‘এমটি কায়রোস’। কৃঞ্চ সাগর অতিক্রমের সময় তুরস্কের জলসীমায় ইউক্রেইনের ‘ড্রোন বোট’ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটি দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

তুরস্কের কোস্ট গার্ড সদস্যরা আগুনে বিধ্বস্ত জাহাজটির ২৫ নাবিককে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। বাকি নাবিকদের মধ্যে চীনের ১৯ জন এবং মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার একজন করে রয়েছেন।

বাংলাদেশি নাবিকরা হলেন—চতুর্থ প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম, অয়েলার হাবিবুর রহমান, পাম্পম্যান আসগর হোসাইন ও ডেক ক্যাডেট আল আমিন হোসেন।

উদ্ধারের পর নাবিকদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা তুরস্কের ইজমিত শহরে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে আছেন।

শনিবার রাতে ইজমিত থেকে প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পোর্ট সুয়েজ থেকে খালি জাহাজ নিয়ে নভোরোসিস্কে যাচ্ছিলাম। বসফরাস পার হয়ে কৃঞ্চ সাগরে তুরস্কের জলসীমায় ২৮ থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল এগোনোর পর স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টা থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে মিসাইল আক্রমণ হয়।’

তিনি জানান, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজের প্রপেলারে আঘাত করে। প্রায় ১০ মিনিট পর আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন রুমের ফুয়েল ট্যাংকারে আঘাত হানলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

মাহফুজুল বলেন, ‘আগুন লাগার এক ঘণ্টার মধ্যে ক্যাপ্টেন কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুই ঘণ্টা পর তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে।’

ইউক্রেইনের ড্রোন বোট থেকেই হামলা হয়েছে বলে নাবিকদের ধারণা। জাহাজটি চীনা হলেও মূলত রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-এর অংশ বলে মনে করেন তারা। রাশিয়ার ক্রুড অয়েল বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোই ছিল কায়রোসের প্রধান কাজ।

রয়টার্স জানিয়েছে, কায়রোস ছাড়াও ‘বিরাত’ নামে আরেকটি ট্যাঙ্কারে নৌ-ড্রোন হামলা হয়েছে। দুটি জাহাজই নভরোসিস্ক বন্দরের দিকে যাচ্ছিল—যা কৃঞ্চ সাগরে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল।

হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতির ড্রোন বোট ট্যাঙ্কারের দিকে ছুটে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়, এরপর আগুনে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই ট্যাঙ্কারই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে গেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

রাশিয়া এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এমটি কায়রোসের প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘মিসাইল আঘাতের পর মনে হয়েছিল সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপরও বেঁচে হাসপাতালে যেতে পেরেছি—এটা অবিশ্বাস্য। হামলার সময় শুধু পরিবারের কথাই মনে হচ্ছিল।’

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানালেও তিনি জানান, এখনো তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘২৫ নাবিকের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে, চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি।’