ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে এক খুদে বার্তায় নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর জানানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ১১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৮টি ইউনিট যোগ হয়ে মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।
কড়াইল বস্তির বউবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আব্বাস আলী বলেন, কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লকে আগুন লাগে। ওই এলাকায় হাজারখানেক ঘর ছিল, যা মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়।
আগুন লাগা অংশের কাছাকাছি বায়তুল আমান এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন আবদুর রহিম। তিনি জানান, আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। তাঁদের ঘর ফাঁকা পড়ে থাকায় কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
খোলা আকাশের নিচে গৃহহারা মানুষ
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লকের বাসিন্দারা কেউ খামারবাড়ি (ঈদগাহ) মাঠে, কেউ এরশাদ স্কুলমাঠে, আবার কেউ মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। খামারবাড়ি মাঠে শতাধিক পরিবার ধোঁয়া–সেঁক নেওয়া মালপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
টিঅ্যান্ডটি মাঠেও একই দৃশ্য—শত শত মানুষ মালপত্র নিয়ে জড়ো হয়েছেন। মশার কামড় ও হালকা শীত থেকে বাঁচতে কাঠ ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে বসে আছেন তাঁরা।
খামারবাড়ি মাঠে অটোরিকশাচালক রবিন শেখ বলেন, তাঁদের ঘরটি কুমিল্লা পট্টির মায়ের দোয়া স্কুলের পাশে। আগুন খুব কাছে পৌঁছানোর পর তাঁরা ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। রাত ৯টার দিকে তিনি বলেন, ‘এতক্ষণে ঘরটা পুড়ে গেছে হয়তো।’ তাঁর তিনটি ঘর পাশাপাশি ছিল বলে জানান তিনি।
রবিনের স্ত্রী নুরেনা বেগম বলেন, আগুন বরিশাল পট্টি থেকে ছড়ায়। দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁরা ঘর থেকে কেবল দুটি র্যাক নিতে পেরেছেন। বাকিটা আগুনে পুড়ে গেছে।
পূর্বের পোস্ট :