শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থীরা কর্মচারীদের একটি ভবন দখল করে রাত কাটিয়েছেন। শুক্রবার রাত দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও নতুন ভবনের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা সেখানেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান নির্দেশ দিয়েছেন—আপাতত অন্যান্য হলে তাদের শিফট করে রাখা হবে। তিনি বলেন, “হলটি রিচেক করা হবে, সব ঠিক থাকলে শিক্ষার্থীদের হলে ফেরার কথা জানানো হবে। তবে কর্মচারী ভবনে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি, তারা ভয় পাওয়ায় আপাতত থাকছে।”
হল ছাত্র সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক জাহিদ উদ্দিন হিমেল জানান, প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রাতে কর্মচারী ভবনে অবস্থান করেছেন। তিনি বলেন, “নতুন ভবনের নিশ্চয়তা না পেয়ে অনেকেই এখানে রাত কাটাচ্ছেন।”
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংলগ্ন ১০ তলা কর্মচারী ভবনে গিয়ে দেখা যায়—ফাঁকা ফ্ল্যাটগুলোতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন; অন্যদিকে যেসব ফ্ল্যাটে কর্মচারীরা আগে থেকেই ছিলেন, তারা সেখানেই রয়েছেন।
হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ বলেন, “আমরা মৃত্যুপুরী মুহসীন হলে আর যাচ্ছি না। আমাদের জন্য মুহসীন হল ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা না করলে অবস্থান ছাড়ব না। বাইরে কোনো আশ্বাসে কাজ হবে না।”
এর আগে দুপুরে পুনঃনির্মাণের দাবিতে কর্মচারী ভবনের ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ২টার দিকে তারা কর্মচারীদের ফ্ল্যাটে তালা ঝোলান। উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান।
রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের দ্বিতীয় দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
উল্লেখযোগ্য, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে শুক্রবার তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক আহত হন। ঢাকার বিভিন্ন ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হয়।
পূর্বের পোস্ট :