ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মের মানুষেরই সমান অধিকার রয়েছে।

রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরে (ধর্মসভা) শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে এই মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম এবং ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ইতিহাসেই সব ধর্মের মানুষ একসূত্রে গেঁথে রাজপথে নেমে এসেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘হাজার বছর ধরে এই দেশে আমরা সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে একসাথে বসবাস করে আসছি। যেভাবে আমরা বিগত এক হাজার বছর শান্তিতে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরও আমরা সেভাবেই একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।”
এর আগে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ছোট ছোট শিশুরা নাচ পরিবেশন করে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানায়। প্রধানমন্ত্রী পূজারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মন্দির কমিটির হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি মন্দিরের হোস্টেল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন।

মূল প্রধান বিষয়সমূহ:

* সবার সরকার: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভোট কে দিয়েছে আর কে দেয়নি—বর্তমান সরকার তা নিয়ে ভেদাভেদ করবে না। দেশের প্রতিটি এলাকার সমউন্নয়ন ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

* রংপুরের উন্নয়ন বরাদ্দ: রংপুর মহানগরীর উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি একনেক সভায় ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া জেলার গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু ও রাস্তাঘাট পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।


* অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার আহ্বান: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে কোনো মহল যেন বিভ্রান্তি বা বিতর্ক তৈরি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য থাকলে তা রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সংসদে এসে তুলে ধরা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের জনজীবন, ব্যবসা ও শিক্ষা ব্যাহত না হয়।

* জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ: সৈয়দপুর থেকে আসার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।