সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা বাড়বে জেনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে ভালো কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা বাড়বে—এ কথা তিনি অস্বীকার করবেন না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ সময়ে কোনো সরকারই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে না।

“আমি আশা করি, জনগণ বুঝতে পারবেন, তাঁদের নির্বাচিত সরকার কেন এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে,”—মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্তের কারণে নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না। একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবে—এই বাস্তবতা মেনেই রাজনীতি করা উচিত।

তিনি বলেন, ঢাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা যাবে না।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা এখন বিরোধী দলে আছেন, তাঁরা লংমার্চ করছেন। তাঁরা তা করতেই পারেন; এমনকি তাঁরা সরকারের কাছে এক দফা দাবিও দিচ্ছেন।”

বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের উদাহরণও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “ককরোচ জনতা পার্টি এত বড় আন্দোলন করেছে, এর আগে মোদির (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন হয়েছিল—দিল্লি পর্যন্ত অচল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়নি। যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেখানে চাপ তৈরি করাই ভালো।”

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কোনো চুক্তি সই হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত তথ্য নেই।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে বোয়িং কেনার বিষয়ে কোনো চুক্তি সই হবে কি না, সে বিষয়ে আমার বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। তাই চুক্তি হতে পারে।”