বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কে অংশ নিতে পারবে, আর কে পারবে না—সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিষয়। এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বিবেচ্য নয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ চেয়েছে, এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী—জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমাদের প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই হবে, সেটা আমাদের দলের বিষয়। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কে নির্বাচন করবে, কে করবে না—এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তারা প্রচলিত আইন এবং নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দল কী বলল, না বলল—সেটা বিষয় নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বা পারবেন না, সেটি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। আমরা বিষয়টি তাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।
বিএনপির প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দল এবং আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব বলেছেন, চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কাউন্সিল হবেই। তবে কোন মাসে, কবে হবে—সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, খুব দ্রুতই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি। তারিখ ও সময় নির্ধারণ হলে তা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে, দুপুর ১২টার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুঃস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পর পর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :