বরিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি জনগণের অটুট বিশ্বাস রয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় আয়োজিত মহড়া পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য উৎসাহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাই সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও সুনাম ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার কৌশলগত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও তিনি সরেজমিনে দেখেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। পরে মহড়ায় অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা যুদ্ধক্ষেত্রের খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোমের আগুনে রান্না করা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাঁকে পরিবেশন করা হয়।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বের পোস্ট :