বগুড়ার শেরপুরে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাগেরহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গরিবের চিকিৎসক’ হিসেবেও পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শেরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় এক চিকিৎসকের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মিশু। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, “২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ডা. সামির হোসেন মিশু এজাহারভুক্ত আসামি। নাটাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. আরাফ মামলাটি করেন।”

তিনি জানান, ওই মামলায় ১৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলাতেই ডা. মিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে বগুড়া শহরের বড়গোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রড, কাঠের বাটাম, হকিস্টিক, চাপাতি, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী আরাফ দাবি করেছেন, হামলার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজন চিকিৎসক তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।