সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীন মিলিয়ে ছয় দিনের সফরে রোববার (২১ জুন) কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ সফরে দেশটির সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫ থেকে ১৭টি দলিল স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এ সফরে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ ২৭ জন সদস্য থাকবেন।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। ২২ জুন পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আসিয়ানের সংলাপ অংশীদার হওয়া এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে।
চীন সফর
চীন সফরের প্রথম দুই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ২২ জুন কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভাপতি এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২৪ জুন সকালে সামার দাভোসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুপুরে ট্রেনে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে অবস্থান করবেন তিনি।
২৫ জুন চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে’ বক্তব্য রাখবেন তিনি।
বিকেলে চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
২৬ জুন চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। ওইদিন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছাবেন।
তিনি জানান, চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ২৮ জন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দুই দেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পূর্বের পোস্ট :