পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ১০১ রানের ইনিংসে ভর করে দিনটি কিছুটা স্বস্তিতে শেষ করেছে বাংলাদেশ।
মাত্র ১০টি বল খেলেছেন তখন। মোহাম্মাদ আব্বাস–এর সুইং সামলাতে ক্রিজের একটু বাইরে দাঁড়িয়ে খেলছিলেন শান্ত। আব্বাসের বলেই এগিয়ে এসে হাফভলির মতো অন ড্রাইভে পাঠান চার। কিছুক্ষণ পর শাহিন শাহ আফ্রিদি–কেও একই ভঙ্গিতে চার মারেন তিনি। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় ভালো ছন্দে আছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ১৩০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রানের ইনিংস খেলেন শান্ত।
এটি ছিল তার ৪০ টেস্টের ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি। অধিনায়ক হিসেবে এটি তার ৫ম শতক—যা বাংলাদেশ অধিনায়কত্বে সর্বোচ্চ।
নেতৃত্বের ইনিংসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করার নজির গড়ছেন শান্ত। ৩০ ইনিংসে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতে দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে শান্তই ইনিংস টেনে তোলেন। তার ব্যাটে আসে ধারাবাহিক ড্রাইভ, কাট ও পুল শট।
হাসান আলী ও সালমান আলী আগার বলে আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। স্পিনারদের বিপক্ষেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী।
৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ইনিংসটি আরও বড় করার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। মোহাম্মাদ আব্বাস–এর বলেই ছক্কা মেরে পৌঁছে যান ৯৫ রানে। এরপর কাভার ড্রাইভে চার মেরে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর শান্তর উদযাপনে ছিল উচ্ছ্বাস—শূন্যে লাফ, ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদন এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
তার সঙ্গে গড়ে ওঠে ১৭০ রানের জুটি, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।
তবে সেঞ্চুরির পরের বলেই মনোযোগে সামান্য বিচ্যুতি ঘটে। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।
সব মিলিয়ে রেকর্ড গড়া এই ইনিংসে আবারও প্রমাণ করেছেন—টেস্ট ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসার নাম এখন নাজমুল হোসেন শান্ত।
পূর্বের পোস্ট :