যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মিথেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে থাকা বিধিনিষেধ ব্যাপকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। 

মিথেন এমন একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

মঙ্গলবার টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি আসনে লড়াই করছেন প্যাক্সটন। এ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লুবক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্পের পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এসব বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছিল।

টেক্সাসের লুবকে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ভোক্তা ও জ্বালানি উৎপাদকদের ৪৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে আজ রাতে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনের ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয় মিথেনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিল করছি।’

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উল্লাসের মধ্যে তিনি আরও বলেন, এ পদক্ষেপের ফলে ‘টেক্সাসের বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্ভব হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে টেক্সাসই সবচেয়ে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন করে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়ারমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতেও ৪৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের একই হিসাব দেওয়া হয়েছিল। তবে কীভাবে এই সাশ্রয় হবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইপিএর প্রশাসক লি জেলডিন বলেন, ‘শীতকালে ঘর গরম রাখা, গাড়িতে জ্বালানি ভরা ও কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ বহন করা যেন মার্কিন নাগরিকদের সাধ্যের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি উৎপাদনকারীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বোঝা চাপানো হলে তারা তা করতে পারবেন না।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির দাম কমানোর নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ট্রাম্প। 

ইরানের বিরুদ্ধে তার শুরু করা যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়ে ডেমোক্র্যাটদের কাছে চলে যেতে পারে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। প্রাক্-শিল্প যুগের পর থেকে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির মোট প্রভাবের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য দায়ী মিথেন।

মিথেনের একটি অণু কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি তাপ আটকে রাখে। তবে বায়ুমণ্ডলে এটি মাত্র সাত থেকে ১২ বছর স্থায়ী হয়। অন্যদিকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শত শত বছর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে থাকতে পারে।

তেল ও গ্যাস খাতের কার্যক্রম থেকে মিথেন নিঃসরণ কমানোর নিয়মগুলোই মূলত পরিবর্তনের লক্ষ্যবস্তু। ভূগর্ভ থেকে গ্যাস উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিতরণ— প্রতিটি পর্যায়েই মিথেন নিঃসরণ ঘটে।

তেল ও গ্যাস খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্ডনোটসের গবেষক জুলিয়া কেইন বলেন, ‘লি জেলডিনের নেতৃত্বাধীন ইপিএ তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত সুবিধাই দিচ্ছে। তারা এমন একটি দন্ততহীন মিথেন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পাচ্ছে, যার মাধ্যমে নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে বলে দাবি করতে পারবে। অথচ তারা জেনেশুনেই তাপ আটকে রাখা বিপজ্জনক গ্যাস বিপুল পরিমাণে নিঃসরণ ও পুড়িয়ে ফেলা অব্যাহত রাখবে।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত থেকে মিথেন নিঃসরণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে শীর্ষে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।

নতুন পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ‘সুপার এমিটার প্রোগ্রাম’ বাতিলের প্রস্তাব। এ কর্মসূচির আওতায় ইপিএ অনুমোদিত পর্যবেক্ষকেরা ঘণ্টায় ১০০ কেজির বেশি মিথেন নিঃসরণকারী বড় ধরণের গ্যাস লিকের ঘটনা জানাতে পারেন।

আরেকটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘প্রান্তিক কূপ’ বা স্বল্প উৎপাদনশীল কূপের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৫ ব্যারেল বা তার কম তেলসমতুল্য জ্বালানি উৎপাদিত হয়।

এ ছাড়া তেল উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া গ্যাস নিয়মিত পুড়িয়ে ফেলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।